কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়?

কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়?

আসলে পুরো দুনিয়াটাই একটি রহস্যে ঘেরা অর্থাৎ রহস্যের মায়াজাল এই পুরো পৃথিবী রহস্যের কোন শেষ নেই। আজকে লিখতে বসেছি একদমই নতুন একটি বিষয় নিয়ে যা কেউ জানে কেউ জানে না। কিসমিস যার কথা প্রায় অনেকেই শুনে থাকবেন হয়তো। 

সুতরাং আজকের এই লেখায় কথা বলব কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়। এই বিষয়টা প্রায় সকলেরই অজানা আমরা নানান সময় নানান রকম দ্বিধায় ভুগি কিসমিস আসলে কি? এবং কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়? 

আদৌ কি কিসমিসের কোন গাছ আছে এবং কিসমিসের বিভিন্ন উপকারিতা এবং এর পুষ্টিগুণ নিয়ে।  জানতে হলে পড়ুন এবং সাথে থাকুন আমাদের।

 

কিসমিস কি? 


কিসমিস হলো সাধারণত একটি শুকনো ফল। অর্থাৎ আমরা হাটে-বাজারে প্রায়ই দেখি আঙ্গুর ফল অর্থাৎ এই আঙ্গুর ফলের শুকনো রূপ হচ্ছে কিসমিস। এই কিসমিস এর ইংরেজি নাম হচ্ছে রেইসিনও(raisins)। 
এছাড়া কিসমিস বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে উৎপাদিত হয়ে থাকে। এবং এ কিসমিস সাধারনত খুব কম লোকেরাই খায় শুধু কিসমিস।কারন বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্যের সাথে মিশিয়ে রান্না করা হয় বিভিন্ন রকমের খাদ্যের রেসিপি।
কিসমিস সাধারণত প্রাচীনকাল থেকে শক্তির ক্যালরির চমৎকার উৎস হিসেবে কাজ করে থাকে। এছাড়া এই কিসমিস সাধারণত মেডিকেল সাইন্সের মতে এমন একটি ফল অর্থাৎ এমন একটি শুকনো ফল যে ফলে ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। 

কিন্তু এই কিসমিস নিয়ে অনেকেরই মনে প্রশ্ন আসে যে কিসমিস কিভাবে তৈরি হয় বা এর কোন গাছ আছে কিনা। আসলে কিসমিস সাধারণত আঙ্গুর ফলের একটি শুকনো রূপ। অর্থাৎ আমরা হাটে বাজারে যে আঙ্গুর ফল দেখতে পাই সেই আঙ্গুর ফলের শুকনো একটি রূপকে বলা হয় কিসমিস। 
এবং আঙ্গুর ফল থেকে তৈরি হয় আমাদের এই বহুল প্রচলিত কিসমিস। তাহলে চলুন এবারে জেনে নেই যে কিসমিস কিভাবে তৈরি করতে হয় বা কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়। 

কিসমিস কিভাবে তৈরি হয়? 


আসলে আমি আগেই বলেছি যে কিসমিস সাধারণত আঙ্গুর ফলের শুকনো রূপ। বিভিন্নভাবে আঙ্গুর ফল থেকে কিসমিস তৈরি করা হয় তার মধ্যে বহুল প্রচলিত যে পদ্ধতি বা সিস্টেম অর্থাৎ আঙ্গুর ফল থেকে যেভাবে কিসমিস তৈরি করা হয় তা নিচে বর্ণনা করা হলো। 
আঙ্গুর ফল থেকে কিসমিস তৈরিতে সাধারণত যে যে উপকরণের প্রয়োজন। তা হলো আমাদের প্রথমেই লাগবে আঙ্গুর বড় লম্বা আকৃতির এক কেজি এবং পানি সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণ। 


যেভাবে তৈরি করবেন কিসমিস

 
প্রথমত পানি ফুটন্ত বা মাইক্রোওয়েভ এর সাহায্যে ফুটিয়ে নিতে হবে। সেই ফুটন্ত পানির ভেতরে আঙ্গুর ফল ছেড়ে দিতে হবে অর্থাৎ লম্বা আকৃতির যে আঙ্গুর ফল সেগুলো ছেড়ে দিতে হবে। এবং মোটকথা আঙ্গুর ফল কে সিদ্ধ করতে হবে। 
এবং অতঃপর সেই আঙ্গুর ফল সিদ্ধ হওয়ার পর এক সাইডে ফেটে যাবে এবং তখন আমাদের বুঝতে হবে যে আঙ্গুর ফল সিদ্ধ হয়েছে। এবং তারপর চুলা থেকে নামিয়ে ফেলতে হবে এবং চালুনি দিয়ে চালাতে হবে আঙ্গুর ফল গুলো। 
অর্থাৎ গরম পানি ঝরিয়ে ফেলতে হবে আঙ্গুর ফল থেকে। তারপর একটা ঝুকরির ভিতর একটা সুতি কাপড় বিছিয়ে তার উপরে আঙ্গুর ফল গুলো ছিটিয়ে দিতে হবে। অর্থাৎ আঙ্গুর ফলের মাঝে মাঝে যাতে ফাঁকা থাকে আলো বাতাস ঢুকতে পারে সেভাবে আঙ্গুর ফল বিছিয়ে রোদে শুকাতে হবে। এবং তারপর টানা দুই থেকে তিন দিন কড়া রোদে শুকালে আঙ্গুর ফল থেকে পরিণত হবে স্বাস্থ্যকর কিসমিসের। 
এই দুই থেকে তিনদিন রোদের মাঝে মাঝেই চলে আসবে কিসমিসের রূপ। তখন দেখতে পারবেন যে আঙ্গুর ফল থেকে আস্তে আস্তে তৈরি হচ্ছে কিসমিস।
 

কিসমিস সংরক্ষণ:


এই তৈরি করা স্বাস্থ্যকর কিসমিস আমরা বিভিন্ন ভাবে সংরক্ষন করতে পারি। অর্থাৎ যত যত্নে রাখবে ততদিন টেকসই হবে এই কিসমিস।

সেগুলো হতে পারে বিভিন্ন মাধ্যম

প্রথমত কিসমিস সংরক্ষণ করা যায় 

  • কাঁচের পাত্রে 
  • কাগজের লিনে 
  • প্লাস্টিকের পাত্রে 
  • নির্দেশিকা ম্যানুয়েল


কাচের পাত্রে কিসমিস সংরক্ষণ:


কিসমিস সাধারণত কাঁচের পাত্রে সংরক্ষণ করা যায়। ভালোভাবে শুকিয়ে কাচের পাত্রে রেখে দিলে প্রায় অনেকদিন যাবত কিসমিস ভালো থাকে আবর্জনা এবং পোকামাকড় থেকে জীবাণু মুক্ত রাখে। 

প্লাস্টিকের পাত্রে কিসমিস সংরক্ষণ:


এছাড়া প্লাস্টিকের পাত্রে ও কিসমিস সংরক্ষণ করা যায়। সে ক্ষেত্রে কিসমিস কড়া রোদে শুকিয়ে প্লাস্টিকের পাত্রে রেখে দিতে হবে এবং সেই প্লাস্টিকের পাত্রটি সাধারণত ঠান্ডা এবং শুষ্ক জায়গায় রাখতে হবে। 
এছাড়া ফ্রিজে রাখলে আরো ভালো হয়। এ পদ্ধতিতে ও কিসমিস সাধারণত অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। 
এছাড়া আরও বিভিন্ন উপায়ে কিসমিস সংরক্ষণ করা যায় সেগুলো অভিনব পদ্ধতি। প্রাচীন যুগের মত অর্থাৎ সনাতন পদ্ধতিতে শিখায় বেঁধে ঘরের ভিতর রেখে দিলেও অনেকদিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।
 

কিসমিস উৎপাদনকারী দেশ:


কিসমিসের বিস্তার লাভ করেছে প্রায় সারাটি বিশ্বে। অর্থাৎ বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কিসমিস উৎপাদন করা হয়। তার ভিতরে কিছু দেশ রয়েছে তার শীর্ষে অবস্থান। 
কিসমিস উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো 

  • ইরাক
  • ইরান 
  • পাকিস্তান ও 
  • ভারত 


অর্থাৎ এই সমস্ত দেশগুলোতে কিসমিসের ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে। এছাড়া এখন বিশ্বের প্রায় প্রতিটি দেশেই কিসমিস উৎপাদন করে থাকে। 

কিসমিস এর ব্যবহার:


কিসমিস এর ব্যবহার সাধারণত বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। কেননা আগেই বলেছি যে কিশমিশ এমন একটি শুকনো জাতীয় ফল যার কোনো পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া এবং অপকারিতা নেই। 
যার কারণে এই কিসমিস বিভিন্ন উপায় এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লোকজন ব্যবহার করে থাকে। তার মধ্যে বাংলাদেশের লোকজন সবচেয়ে কিসমিস ব্যবহার করে খাদ্য হিসেবে। অর্থাৎ মিষ্টি জাতীয় বিভিন্ন খাবারের মধ্যে কিসমিস ব্যবহার করে থাকে। যেমন :

  • কোরমা 
  • পোলাও 
  • পায়েস
  • আইসক্রিম 
  • কেক 
  • পিঠা 


ইত্যাদি বিভিন্ন খাবারের মধ্যে অর্থাৎ মিষ্টি জাতীয় খাবার গুলোর মধ্যে বাংলাদেশের মানুষ সাধারণত কিসমিস ব্যবহার করে থাকে। শুধু তাই নয় উপরিউক্ত এই খাবারগুলোর মধ্যে কিসমিস ব্যবহারে খাবারকে দেয় এক নতুন স্বাদের ছোঁয়া। 
এবং এই বিভিন্ন রকমের মিষ্টান্ন জাতীয় খাবারের কে সাধের এক নতুন ছোঁয়া যোগ করতে কিসমিসের ব্যবহার যেন অতুলনীয়।

 
ঘরোয়া চিকিৎসায় কিসমিস:


কিসমিস কিভাবে তৈরি হয় ইতোমধ্যে আমরা জেনেছি।অর্থাৎ আমরা এটা জেনেছি যে কিসমিস সাধারণত আঙ্গুর ফল থেকে তৈরি হয়। অর্থাৎ আঙ্গুর ফল থেকে যেহেতু কিসমিস তৈরি হয় সে ক্ষেত্রে এটার কোন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া এবং ক্ষতিকর দিক নেই। তার মানে এটা বিভিন্ন ঔষধি হিসেবে এবং ঘরোয়া চিকিৎসা হিসেবে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে কিসমিস ব্যবহার হয়। তারমধ্যে অন্যতম কিছু ব্যবহারের ক্ষেত্র সমূহ 

  • এসিডিটি 
  • হূদরোগ 
  • সুস্থভাবে ওজন বাড়াতে 
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে 
  • কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে 
  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ 
  • অনিদ্রা 
  • রূপচর্চা 


ইত্যাদি কারনে কিসমিসের ব্যাবহার অপরিসীম

অ্যাসিডিটিতে কিসমিস:


কিসমিস সাধারণত অ্যাসিডিটিতে জাদুকর উপায় হিসেবে কাজ করে। কেননা কিসমিস প্রতিদিন সকালে বাসি পেটে কিসমিস ভেজানো পানি সেবন করলে এসিডিটি থেকে নিরাময় সম্ভব। 

কোষ্ঠকাঠিন্য:


কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতেও কিসমিস জাদুকরি উপায় এর মতই কাজ করে। কেননা কিসমিসে তাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা শরীরের পরিপাক তন্ত্র দ্রুত সাহায্য করে এছাড়া এতে করে খাবার হজমে সহায়তা করে। এবং শরীরের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সক্ষম হয়। 

ওজন বাড়াতে কিসমিস:


সুস্থভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে কিসমিসের ভূমিকা ভূমিকা যেন অপরিসীম। কারণ এমন অনেক মানুষ আছে যারা ওজন বাড়াতে চায় অথচ বাড়াতে পারে না। এবং আপনি যদি তাদের মধ্যে পরেন তাহলে আমি বলব কিসমিস আপনার জন্য হতে পারে একটি জাদুকরী সহায়ক। 

ক্যান্সার প্রতিরোধে:


ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে এই প্রাকৃতিক ঔষধ অর্থাৎ একটি সুইচ জাম্পার ভূমিকা পালন করে। কেননা কিসমিসের এক ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে যা শরীরে ভেসে বেড়ানো ফ্রি রেডিক্যাল গুলিকে লড়াই করে শেষ করে দেয়। ফলে ক্যান্সার প্রতিরোধ করতে অত্যন্ত সহায়ক হিসেবে কাজ করে এই কিসমিস। 

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে:


উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের অপার ভূমিকা পালন করে এই কিসমিস। কেননা কিসমিসে থাকা পটাশিয়াম রক্তের চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরে থাকা উচ্চমাত্রার সোডিয়াম লবণ যাকে বলে তা রক্তচাপ বাড়ার প্রধান কারণ। এবং সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে কিসমিসের ভূমিকা অবিস্মরণীয়। 

অনিদ্রা:


কিসমিস অনিদ্রা দূর করতেও বিভিন্ন রকম ভূমিকা পালন করে থাকেন। কেননা ঘুমহীন রোগীদের জন্য কিসমিস যেন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং কিসমিসে থাকা বিভিন্ন রকমের উপকারী পদার্থ রয়েছে যা আমাদের অনিদ্রা দূর করতে সহায়তা করে। 

হূদরোগ :


অন্যান্য রোগের মতো হৃদরোগেও কিসমিসের ভূমিকা তুলে রাখার মত। কেননা কিসমিস সাধারণত হৃদরোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে। হূদযন্ত্রের বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে কিসমিসের ভূমিকাও তুলনাহীন।
 

রূপচর্চা:


বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে যেমন কাজ করে। তেমনি কিসমিসের ভূমিকা রয়েছে রূপচর্চায়। রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দিকে কিসমিসের ভূমিকা অপরিসীম। রূপচর্চায় ভালো ফলাফল পেতে কিশমিশের ব্যবহার যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই কিসমিস সাধারণত রূপচর্চার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 

কিসমিসের অপকারিতা :


আমরা পুরো লেখায় জেনেছি যে কিসমিস কিভাবে তৈরি হয় এবং কিসমিস কি? কেননা আমরা জেনেছি যে কিসমিস সাধারণত ফলের শুকনো রূপ। আঙ্গুর ফল শুকিয়ে কিসমিস তৈরি করা হয় সুতরাং একটা ফল শুকিয়ে যখন কিসমিস তৈরি করা হয় সে ক্ষেত্রে এর (side effect)পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া বা কোন ক্ষতিকর দিক নেই বললেই চলে। 
সুতরাং নির্দ্বিধায় যেকোন উপায়ে কিসমিস খেতে পারেন বা এই ব্যবহার করতে পারেন। তাই কিসমিস খাওয়া নিয়ে কোন চিন্তার কারন নেই কেননা এর কোনো ক্ষতিকর দিক নেই যেকোনো উপায়ে চাইলে খেতে পারেন।
 
সুতরাং আজকের পুরো লেখায় আমরা জেনেছি যে কিসমিস কিভাবে তৈরি হয় এবং কিশমিশের বিভিন্ন উপকারিতা সম্পর্কে। এবং এর উৎপত্তিস্থল এবং কিসমিস নিয়ে যাবতীয় তথ্য তুলে ধরার চেষ্টা করেছি উক্ত লেখায়। 
আশা করি আর কোন পাঠকের মনে কোন সন্দেহ থাকবে না যে কিসমিস কিভাবে তৈরি হয় এবং কিসমিস নিয়ে কোনো প্রশ্নই হয়তো আসবে না এই লেখা পাঠ করার পর। 

অতঃপর পাঠকদের উদ্দেশ্যে একটা কথাই বলবো যে এই লেখা যদি ভাল লাগে অর্থাৎ আমার এই লেখা যদি ভালো লাগে তাহলে। অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন। এবং সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ