বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ 

একটা সময় ছিল যখন বাংলার মানুষের গোলাভরা ধান ছিল,গোয়াল ভরা গরু ছিল,এবং পুকুর ভরা মাছ ছিল। কিন্তু কালের বিবর্তনে যেন সবকিছু আজ বিলুপ্তির পথে। তাই আজ এই লেখায় কথা বলব একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে। মৎস্যচাষী যারা রয়েছে তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লেখা হতে চলেছে এই লেখা। 

কেননা বাংলাদেশে মৎস্য চাষ বা পুকুরে মাছ চাষ কিংবা বিভিন্ন আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের চাহিদা দিন দিন বেড়েই চলেছে। তাই এই লেখায় কথা বলব একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে তা হচ্ছে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ। 

তাই আর দেরি না করে চলুন মূল কথায় যাওয়া যাক যে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ কি? এবং এর সুবিধা সমূহ। এছাড়া বায়োফ্লোক মাছ চাষ পদ্ধতিতে বিভিন্ন রকমের তথ্য নিয়ে আলোচনা করব এ লেখায়। তবে চলুন জেনে নেওয়া যাক বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ।

 

বায়োফ্লোক পদ্ধতি:


মূলত বায়োফ্লোক পদ্ধতি হচ্ছে উপকারী ব্যাকটেরিয়া অনুজীব ও শৈবালের সমন্বয়ে তৈরি হওয়া পানিতে পাতলা আস্তরণ। যা পানির ফিল্টার করতে সাহায্য করে এবং পানি থেকে নাইট্রোজেন জাতীয় ক্ষতিকর উপাদান গুলি শোষণ করে নেয়। এবং এর প্রোটিনসমৃদ্ধ উপাদান খাবার হিসেবে গ্রহণ করতে পারে মূলত এটাই বায়োফ্লোক পদ্ধতি। 
এ পদ্ধতিতে খুব অল্প পরিসরে পুকুরের সমান মাছ চাষ করা যায় এছাড়া বায়োফ্লোক পদ্ধতি সাধারণত একটি বিদেশী এবং আধুনিক পদ্ধতি। এছাড়া আমাদের দেশীয় বিভিন্ন জাতের মাছের উৎপাদন দিন দিন কমে যাচ্ছে। এবং এগুলো রক্ষা করতে এবং পরিমাণমতো চাহিদা বৃদ্ধি করতে দেশে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভূমিকা অপরিসীম। 
কারণ আমাদের দেশে এমন হাজারো মানুষ আছে যাদের পুকুর নেই কিন্তু তাদের বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা সম্ভব। এবং বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের ভূমিকা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 
এবং দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য চাষের খরচ বায়োফ্লোক পদ্ধতি। এছাড়া পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশ যেমন তার মধ্যে অন্যতম ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করে থাকে। 

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সুবিধাসমূহ :


বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের হাজারও সুবিধা রয়েছে। কেননা বায়োফ্লোক পদ্ধতি সাধারণত এরকম একটি পদ্ধতি যা সাধারণত একটি পুকুরের সমান মাছ চাষ করা সম্ভব এই বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে। 
কেননা বাংলাদেশের এমন হাজারো কৃষক আছে যাদের থাকবার মত জায়গা নেই এবং চাষ করার জন্য উপযুক্ত পুকুর নেই কিন্তু তাদের ক্ষেত্রে কি হবে? হ্যাঁ, তাদের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি হচ্ছে বায়োফ্লোক পদ্ধতি।
কেননা বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে স্বল্পসংখ্যক জায়গার ভিতর অধিক মাছ চাষ করা সম্ভব। এবং এটি যেকোনো জায়গায় নির্মাণ করা সম্ভব বাড়ির উঠোনে, ঘরের ভিতর, কিংবা ছাদে যেকোনো জায়গায় এটি করা যেতে পারে। তাই বলব যে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সুবিধা সাধারণত আকাশ সমান। 

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের কিছু সুবিধা সমূহ নিচে আলোচনা করা হলো:

 
  • স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভ 
  • মাছের বৃদ্ধি নিশ্চিতকরন 
  • উত্তম প্রোটিনের উৎস 
  • খাদ্য রূপান্তর হার হ্রাসকরন
  • সহজ চাষ পদ্ধতি 
  • খুব কম পানি পরিবর্তন 
  • জমি ও পানির সর্বোচ্চ ব্যবহার
  • রোগ-বালাইয়ের ঝুকি কম 
  • যে কোন ধরনের মাছ চাষ সম্ভব 
  • পুকুরের তুলনায় অধিক মাছ চাষ 
  • স্বল্প সময়ে মাছের যোগান
 

পুকুরের তুলনায় বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের সুবিধা:


একটি পুকুরের তুলনায় সাধারণত হাজারগুন সুবিধা রয়েছে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের। কারণ একটি পুকুরে মাছ চাষ করতে হলে সেখানে আগে বিশুদ্ধ পানির ব্যাবস্থা করতে হবে। পানি এবং অধিক পরিসরের জায়গার প্রয়োজন পুকুরের মাছ চাষ করতে হলে। 
এছাড়া বর্ষার সময়ে পুকুরপাড় বেঁধে দেওয়ার ঝামেলা রয়েছে এবং বর্ষায় পুকুর ভেষে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া মাছ ধরতে হলে পুকুরে সাধারণত অনেক পরিশ্রমের প্রয়োজন হয়। এছাড়া এক গবেষণায় দেখা গেছে যে একটি পুকুরের তুলনায় বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা সাধারণত ২০ গুণ বেশি সম্ভব। 
এছাড়া পুকুরে মাছ চাষ করলে সাধারণত রাক্ষসী মাছের প্রাদুর্ভাব বেশি হয় সে দিক থেকে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে কোন ঝামেলা ছাড়াই বিভিন্ন ধরনের মাছ চাষ করা সম্ভব।
 

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য দক্ষ জনবল:


বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য দক্ষ জনবল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা আমাদের দেশে হাজারো চাষি রয়েছে যারা শুধুমাত্র দক্ষ জনবলের অভাবে এবং সঠিক প্রশিক্ষণের অভাবে মাছ চাষে লাভবান হতে পারেনা। 
সে ক্ষেত্রে বায়োফ্লোক পদ্ধতি একটু কঠিন পদ্ধতি কারণ এক্ষেত্রে সঠিক জ্ঞান না থাকলে সাধারণত হোঁচট খাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে পুকুর নির্মাণ করতে হলে সঠিক মাপের প্রয়োজন রয়েছে এবং সঠিকভাবে সমস্ত কাজ সম্পন্ন করতে হবে। 
এছাড়া বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে ফ্লোক তৈরি করার রয়েছে প্রশিক্ষণের বিষয় কেননা অভিজ্ঞ লোক ছাড়া ফ্লোক তৈরি করতে পারবে না। এছাড়া বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে পানি প্রস্তুত করার জন্যও রয়েছে বিশেষ জ্ঞানের প্রয়োজন। 
সে ক্ষেত্রে আমি বলব বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার আগে প্রত্যেকটা চাষীকে সাধারণত সঠিক জ্ঞান নিয়ে মাছ চাষ করা উচিত। সেক্ষেত্রে হতে পারে নিকটবর্তী কোন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া। 
কেননা আমাদের বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটা জেলা,উপজেলা ভিত্তিক রয়েছে যুব উন্নয়ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এবং মৎস্য চাষীদের জন্য রয়েছে মৎস্য উন্নয়ন কেন্দ্র বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে উক্ত চাষে জড়িয়ে পড়া উত্তম। 

তাহলে এবার আসা যাক যে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য কি কি প্রয়োজন? কেননা বায়োফ্লোক পদ্ধতি একটি অধিক ব্যয়বহুল পদ্ধতি এ পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হলে বিভিন্ন উপকরণের প্রয়োজন রয়েছে। 

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ:

 
বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য আমাদের সাধারণত প্রথমত প্রয়োজন।

  • চৌবাচ্চা হাউস বা ট্যাংক 
  • লোহার খাঁচা 
  • ত্রিপল 
  • আউটলেট 
  • টিডিএস মিটার 
  • পিএইচ মিটার 
  • অ্যামোনিয়াম টেস্ট কিট 
  • অক্সিজেনের জন্য মটর 
  • বিদ্যুৎ 
  • মাছের পোনার খাদ্য 
  • প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া 
  • এবং অবশেষে হচ্ছে পানি
 
এই উপকরণগুলো হলে সাধারণত বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করা শুরু করা যেতে পারে। এখানে ট্যাংক বা হাউস অথবা চৌবাচ্চা এটা প্রয়োজন সাধারনত সেখানে পানি ধরে রাখবে। এবং একটা লোহার খাঁচা সাধারণত পানি টাকে ধরে রাখার জন্য এবং জায়গাটা মজবুত করার জন্য। 
ট্রিপল দিতে হবে যেন পানি বাহিরে না যায়। এবং মোটরের ব্যবস্থা রাখতে হবে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এবং বিদ্যুত রাখতে হবে মোটর চালানোর জন্য এছাড়া মানসম্মত মাছের পোনা মজুদ করতে হবে।

বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য পানির প্রস্তুতকরণ:

 
বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য পানি প্রস্তুত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা মাছের আবাসস্থল হচ্ছে পানি, পানি যদি গুণগতমানসম্পন্ন দিক দিয়ে ভাল না হয় তাহলে মাছ প্রজনন করতে পারবে না। এবং সেখানে থাকতে পারবে না ফলে ব্যবসায় লাভের আশঙ্কা হবে। 
তাই বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য পানি প্রস্তুতির দিকে অধিক গুরুত্ব বজায় রাখতে হবে। এবং বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে পানি প্রস্তুতের ক্ষেত্রে সাধারণত আমাদের যা করতে হবে প্রথমে হচ্ছে। 
যে ট্যাংকে পানি দেওয়া হয়েছে সেই ট্যাংকের ব্লিচিং পাউডার দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এবং এরপর পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে পানি প্রবেশ করাতে হবে। এছাড়া পানি বিভিন্ন জায়গা থেকে দেওয়া যেতে পারে নলকূপ, পুকুরের পানি কিংবা আরো বিভিন্ন জায়গার পানি দেওয়া যেতে পারে। 
কিন্তু পানিতে আয়রন এর মাত্রা ০.২ পিপিএম এর বেশি হলে পানি থেকে আয়রন দূর করার ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া আয়রন দূর করার জন্য সাধারণত যে বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হচ্ছে প্রতি টন পানিতে ২৫-৩০ পিপিএম ব্লিচিং পাউডার মেশাতে হবে। 
এবং মেশানোর পর খেয়াল রাখতে হবে যে পানিতে যাতে ১০ থেকে ১২ঘণ্টা একটানা বাতাস সরবরাহ চলতে থাকে ওদিকে বিশেষ নজরদারি রাখতে হবে। এবং ৫০ পিপিএম হারে ফিটকিরি প্রয়োগ করে আরো ১২ ঘণ্টা পানিতে অনবরত বাতাস সরবরাহ করতে হবে। 
তারপর ২৪ঘন্টা বা একদিন একরাত পানিতে ১০০ পিপিএম হাড়ে ক্যালসিয়াম কার্বনেট বা caco3 অর্থাৎ চুন প্রয়োগ করবে তা সরবরাহ নিয়মিত করতে হবে। । সত্য বিষয়গুলো মেনে তারপরে পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করে সে পানি প্রবেশ করানো যেতে পারে। 
এবং এই সময়ে পানি প্রবেশ করানোর আগে পানির গুণাগুণ এর দিকে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখতে হবে। তাহলো তাপমাত্রা থাকতে হবে ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে এবং পানির রং থাকতে হবে সবুজ বা হালকা সবুজ কিংবা বাদামি হলে চলবে। দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ প্রতি লিটারে ৭থেকে ৮ মিলিগ্রাম থাকতে হবে। 
এবং পানির পি এইচ ও খরতা এরপরে আরও অন্যান্য উপাদান সঠিক পরিমানে বজায় রাখতে হবে। এমোনিয়া প্রতি লিটারে ০.০১ মিলিগ্রাম নাইট্রাইট প্রতি লিটারে ০.১ থেকে ০.২মিলিগ্রাম। ৯০ থেকে ৩ মিলিগ্রাম ফসফরাস প্রতি লিটারে ০.১থেকে ৩ মিলিগ্রাম। এছাড়া আরো যে বিষয়গুলো রয়েছে তা হলো পানির সরবরাহ থাকতে হবে ২৫ থেকে ৩৫ সেন্টিমিটার। 
পানির গভীরতা থাকতে হবে তিন থেকে চার ফুট ফলকের ঘনত্ব ৩০০ গ্রাম প্রতি টনে টিডিএস প্রতি লিটারে ১৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার মিলিগ্রাম এবং লবণাক্ততা থাকতে হবে তিন থেকে পাঁচ পিপিটি। উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখলে সাধারণত পানি প্রস্তুত হবে। 

পানিতে ফ্লোক উৎপাদন:



বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য পানিতে ফ্লোক তৈরি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। কেননা ৪ ভাগের ১ ভাগ পানি দিয়ে পানিতে ১০০০ পিপিএম হারে আয়োডিন ছাড়া লবণ প্রয়োগ করতে হবে। 
লবণ প্রয়োগের পর টিডিএস পরীক্ষা করে নিতে হবে এবং বায়োফ্লোক এর জন্য ১৪ থেকে ১৮ পিপিএম টিডিএস থাকা ভালো। এছাড়া যদি লবণের প্রয়োগের পর কাঙ্খিত টিডিএস পাওয়া না যায় তাহলে পরিমাণমতো লবণ প্রয়োগ করে আদর্শ মাটি দিয়ে রাখতে হবে। 
এছাড়াও একটি প্লাস্টিকের বালটিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে ৮ থেকে ১০ ঘন্টা কালচার প্রয়োগ করতে হবে। 
এবং এবারে আমাদের বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য পানি প্রস্তুত এবং ফ্লোক তৈরি কাজ শেষ। এখন আমাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে পানিতে যদি ফ্লোক তৈরি হয় তাহলে আমরা জানবো কিভাবে বা এটা বুঝার কোন উপায় আছে কিনা। তাহলে চলুন জেনে নেই যে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার জন্য পানিতে ফ্লোক তৈরি হয়েছে কিনা তা বুঝার উপায়।
 

পানিতে ফ্লোক উৎপন্ন হলে জানার উপায়:


বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য সাধারণত পানিতে ফ্লোক তৈরি হলে তা জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা এত পরিশ্রমের পর যদি নাই জানতে পারি যে পানিতে ফ্লোক তৈরি হলো কিনা তাহলে তো পুরো বিষয়টাই বিফলে গেল। তাই আমাদের জানতে হবে যে পানিতে ফ্লোক তৈরি হয়েছে কিনা। 
সাধারণত পানিতে ফ্লোক তৈরি হলে 

  • পানির রং সবুজ বা বাদামি দেখায় 
  • পানিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দেখা যায় 
  • পানি বা কাঁচের গ্লাসে করে পানি সূর্যের আলোর আগে ধরলে দেখা যাবে যে ভিতরে গুটিগুটি বা দানা জাতীয় কিছু একটা তৈরি হয়েছে 
  • এছাড়া পরীক্ষা করলে পাওয়া যাবে তাদের বংশ বিস্তার পরিলক্ষিত হয়। এবং এগুলো বিষয়ে দেখলে মনে হবে বা জানতে হবে যে পানিতে ফ্লোক তৈরি হয়েছে। 

হাউস, ট্যাংকি বা চৌবাচ্চা নির্মাণ: 


বায়োফ্লোক মাছ চাষের পদ্ধতি গুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে হাউস,টাংক,বা চৌবাচ্চা নির্মাণ। বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ সাধারণত দুই ধরণের ট্যাংকিতে করা যায় তা হল স্থায়ী বা অস্থায়ী। 
অর্থাৎ সিমেন্ট দিয়ে কিংবা রড, লোহার পাত দিয়ে স্থায়ী টাংকি তৈরি করতে হয় যা সকলেরই জানা রয়েছে। এখানে আমরা জানবো কিভাবে ট্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ট্যাংক তৈরি করতে হয়। ত্রিপল দিয়ে অস্থায়ী ট্যাংক তৈরি করার নিয়ম এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে লোহার গ্রেট। 
অর্থাৎ রড দিয়ে বৃত্তাকারে খাঁচা তৈরি করতে হবে অর্থাৎ গোলাকার আকৃতির খাঁচা তৈরি করতে হবে সেক্ষেত্রে মাঝামাঝি সাইজের দিলে ভালো হয়। এবং রডের চারপাশে ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দিতে হবে যাতে পানি বাহিরে বের হতে না পারে। এবং ঢালাই কৃত লোহার খাঁচা টি সাধারণত মেঝেতে বা ফ্লোরে মাটির নিচে গেঁথে দিতে হবে এবং সি সি ঢালাই দিতে হবে। 
বৃত্তের কেন্দ্রের মাটির ঠিক নিচে স্থাপন করতে হবে এবং উন্নত মানের তারপুলিন ত্রিপল এর সম্পূর্ণ খাচাটি ঢেকে দিতে হবে। তারপর পুরো পলিথিন দিয়ে আচ্ছাদিত করে তাতে পানির মজুদ করতে হবে। 
এখন আপনাদের মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে কত লিটার পানির জন্য কতটুকু জায়গা প্রয়োজন তা নিয়ে এখন কথা বলব। 

তিন হাজার লিটার পানি ধারণের জন্য ট্যাংকের সাইজ হতে হবে সাধারণত ৬ ফিট এবং ৪.৫ মিটার উচ্চতা। আর ৫০০০ লিটার এর জন্য ৮ ফিট এবং ৪.৮ মিটার উচ্চতা। লিটার প্রতি পানিতে সাধারণত লোহার খাঁচার দৈর্ঘ্য পরিমাপ করতে হয়। 
তারপরে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য সাধারণত ট্যাংকের সাথে পাম্পের সংযোগ ঘটাতে হবে। যাতে পানিতে অক্সিজেন সরবরাহ ঠিক আছে এদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে। যে পানির আয়তনের তুলনায় অক্সিজেন প্রয়োগ করে অথবা প্রতি দশ হাজার লিটার পানির জন্য ৭০ থেকে ৮০ ওয়াট এর এয়ার পাম্প লাগবে। এবং আট থেকে দশটি ইয়ার স্টন প্রয়োজন। এভাবে সঠিক মাপে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের উপকরণ তৈরি করতে হবে।

 
বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য কিছু সতর্কতাঃ


বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় কিছু সতর্কতা রয়েছে যেগুলো অবলম্বন করতে হবে। এই সর্তকতা অবলম্বন না করলে হয়তো মাছ চাষে ব্যাঘাত ঘটতে পারে। 
আমাদের খেয়াল রাখতে হবে যে পানিতে প্রয়োজনীয় উপকরণ গুলো ঠিকমতো পাচ্ছে কিনা। 
তার মধ্যে অন্যতম হলো বিদ্যুৎ, অক্সিজেন এবং পানির তাপমাত্রা ঠিক রাখা। কেননা পানিতে অধিক গরম পড়লে সে ক্ষেত্রে আমাদের যে চাষকৃত মাছ তাদের ক্ষতি হবে। এছাড়াও প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলে মটর চলবে না এবং অক্সিজেন সরবরাহ থাকবে না। 
সেক্ষেত্রে সব সময় অর্থাৎ ২৪ ঘন্টা অক্সিজেন সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে হবে। এবং সঠিক পরিমাণে খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। 

অবশেষে এই উক্ত বিষয়গুলো মেনে চললে সাধারণত বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষে লাভবান হওয়া সম্ভব। এছাড়া আমাদের দেশে হাজারো খামারী রয়েছে যারা মাছ চাষে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে শুধুমাত্র তাদের দক্ষ জনবল এবং প্রশিক্ষণের অভাবে। 
সেক্ষেত্রে আমি এই উক্ত লেখায় বিস্তারিত আলোচনা করেছি যে কিভাবে বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হয়। এবং বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার নিয়ম গুলো উপরিউক্ত লেখায় আলোচনা করা হয়েছে। এবং এই লেখা যদি কেউ পাঠ করে আশা করি তার জন্য বায়োফ্লোক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করার কোন অসুবিধার সৃষ্টি করবে না। 

এবং অবশেষে বলব পাঠকদের উদ্দেশ্যে যে আমার লেখা যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানাবেন ধন্যবাদ সবাইকে সাথে থাকার জন্য। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ