থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা

থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা


থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা


ভেষজ আয়ুর্বেদ এর মতে পৃথিবীতে কোন গাছ বা উদ্ভিদ ফেলনা নয়। কেননা পৃথিবীর বুকে যতগুলো গাছ এবং উদ্ভিদ রয়েছে সকল উদ্ভিদ এবং গাছের পাতা বা ফল বা ডগা সবকিছুই আমাদের কাজে লাগে ঔষধ হিসেবে। 

কেননা আয়ুর্বেদ মতে বিভিন্ন প্রাকৃতিক গাছ গাছড়ার তৈরি থেকেই আয়ুর্বেদিক ঔষধ বানানো হয়। তাই আজ কথা বলব একটি ভিন্ন বিষয় নিয়ে। তাহলো থানকুনি পাতার (thankuni pata) উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। 

আরও পড়ুন


কারণ আমরা অনেক সময় অনেক জায়গায় দেখেছি যে থানকুনি পাতা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য এবং বিভিন্ন প্রশ্ন। হয়তো আমরা অনেকেই জানি না যে এই জাদুকরী থানকুনি পাতার ভিতরে কি উপকার রয়েছে এর অপকারিতা কি? 

তাই আজ এই লেখায় আলোচনা করব থানকুনি পাতার বিস্তারিত নিয়ে এবং থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে। তবে চলুন আর দেরি না করে জেনে নেই যে থানকুনি পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা। প্রথমেই জানবো থানকুনি পাতা পরিচিতি। 


থানকুনি পাতার (thankuni pata) পরিচিতি:

 
বাংলা ভাষায় আমরা বলি থানকুনি পাতা (thankuni pata)এই থানকুনি পাতা সাধারণত একটি উদ্ভিদ জাতীয় গাছ। গোল আকৃতির পাতা লম্বা ডগার উপরে একটি পাতা হয় পাতা সাধারণত সবুজ রঙের। 
এবং এই থানকুনি পাতার বৈজ্ঞানিক নাম হচ্ছে (centella asiatica)। থানকুনি পাতা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন কিছু দেশে পরিচিত একটি উদ্ভিদ। কেননা বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে দেখা যায়। এছাড়াও সাধারণত থানকুনি পাতার বিস্তার রয়েছে বাংলাদেশ,ভারত,উত্তর অস্ট্রেলিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, মালয়েশিয়া এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশে প্রায় এই উদ্ভিদের দেখা মিলেছে। 
এবং ভেষজ হিসেবে এর বহুল ব্যবহৃত হচ্ছে।কেননা ভেষজ হারবাল এবং ঘরোয়া চিকিৎসা ক্ষেত্রে থানকুনি পাতার বিস্তার অতি পরিচিত। কারণ সবারই কমবেশি জানা রয়েছে যে থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা গুলো কি?
 

থানকুনি পাতা (thankuni pata) কোথায় কোথায় জন্মে? 


থানকুনি পাতা সাধারণত বিভিন্ন জায়গায় জন্মে। এছাড়া বেশিরভাগ যে জায়গায় জন্মায় তা হচ্ছে পুকুরের ধারে এবং রাস্তার ধারে এছাড়া মাঠের জমিতে ও থানকুনি পাতা জন্মে। এছাড়া বেশিরভাগ থানকুনি পাতা জন্মে রাস্তার ধারে ঢালু জায়গা তে। 
এবারে জানবো থানকুনি পাতার উপকারিতা গুলো কি কি এবং এর অপকারিতা গুলো কি কি? তাহলে পড়ুন থানকুনি পাতার অপকারিতা ও উপকারিতা সম্পর্কে।
 

থানকুনি পাতার (thankuni patar upokarita) উপকারিতা গুলো কি কি?

 
থানকুনি পাতা সাধারণত বিভিন্ন কাজে লাগে এবং বিভিন্ন অসুখের ওষুধ হিসেবে কাজ করে। মোটকথা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া মুক্ত একটি ভেষজ হারবাল এবং ঘরোয়া ঔষধ। 

থানকুনি পাতার উপকারিতা(thankuni patar upokarita):

 
থানকুনি পাতার বহুল উপকারিতার মধ্যে প্রধান যে উপকারিতা তাহলো সাধারণত এতে আছে 

  • প্রচুর ভিটামিন-সি তাই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় 
  • মুখের ব্রণ দূর করে 
  • মুখের ঘা  
  • সর্দির জন্য উপকারী
  • কাশি
  • গলা ব্যাথা
  • বদহজম

এছাড়া পেটের অসুখে থানকুনি পাতা ব্যবহার আছে শরীরের জন্য ভালো কাজ করে এই খানকুনির পাতা সাময়িকভাবে কাশি কমাতে সাহায্য করে। গলা ব্যাথার জন্য খুবই উপকারী একটি উদ্ভিদ। এবং বদহজমের ভালো কাজ করে এই থানকুনি পাতা। 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়:


থানকুনি পাতার রয়েছে ভিটামিন সি জাতীয় পদার্থ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অত্যন্ত সহায়ক। বিভিন্ন রোগের মহৌষধ হিসেবে কাজ করে।
 

মুখের ব্রুণ দূর করে:


থানকুনি পাতার হাজারো উপকারিতার মধ্যে একটি হচ্ছে মুখের ব্রুণ দূর করা। 
থানকুনি পাতা সাধারণত সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কাজ করে। কারন অনেক ছেলে মেয়েদের মুখে ব্রুণ হয়। যার কারণে থানকুনি পাতা একটি ওষুধের মতো কাজ করে। থানকুনি পাতায় রয়েছে অ্যামাইনো এসিড এবং বিটা ক্যারোটিন। 
যা মুখের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে অত্যন্ত সহায়ক। এবং মুখের ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায় ত্বকের অন্তরে থাকে পুষ্টি ঘাটতি পূরণ করে ডেকে আনে সজীবতা। 

মুখের ঘা:


থানকুনি পাতার উপকার এর মধ্যে মুখের ঘা সারানোর উপকারিতা অন্যতম। কেননা থানকুনি পাতা তে রয়েছে ভিটামিন সি জাতীয় পদার্থ যা মুখের ঘা সারাতে সাহায্য করে। যার কারণে শরীরের কোথাও কেটে গেলে বা কোথাও ক্ষতের সৃষ্টি হলে সেখানে থানকুনি পাতা বেটে তার রস কিংবা থানকুনি পাতার প্রলেপ দিয়ে সেখানে লাগিয়ে দিবেন। নিমিষেই ব্যাথা দূর হয়ে যাবে এবং ঘা শুকাতে সাহায্য করবে। 

সর্দি কাশি:

 
সর্দি-কাশিতে থানকুনি পাতা সাধারণত জাদুকরি উপায় এর মত কাজ করে। কেননা থানকুনি পাতার উপকার এর মধ্যে সর্দি-কাশি অন্যতম। সর্দি কাশি হলে সাধারণত এবং শুকনো কাশি হলে থানকুনি পাতার রস বের করে সাধারণত একটি গ্লাসে গরম করে চুমুক দিয়ে খেয়ে নেবে। 
এছাড়া গরম করতে হবে কারণ থানকুনি পাতার ভিতরে লুকিয়ে থাকা জীবাণু ধ্বংস করার জন্য হালকা কুসুম গরম করে নিতে হবে। 

পেটের অসুখে থানকুনি পাতা(thankuni pata):


পেটের অসুখে থানকুনি পাতার উপকারিতা সাধারণত তুলে রাখার মত। পেটের বিভিন্ন রকম অসুখ রয়েছে তার মধ্যে থানকুনি পাতার গুরুত্ব অপরিসীম। পেটের বিভিন্ন রকম অসুখ এর মধ্যে অন্যতম হলো। 

  • এসিডিটি  
  • বদহজম 
  • ক্ষুধামন্দা

অ্যাসিডিটিতে থানকুনি পাতা(thankuni pata):


এসিডিটির জন্য থানকুনি পাতা সাধারণত জাদুকরি উপায় হিসেবে কাজ করে। কারন থানকুনি পাতাতে যে পদার্থ থাকে তা সাধারণত পেটের অ্যাসিডিটি দূর করতে সাহায্য করে। 
বুক জ্বালাপোড়া এবং পেটের জ্বালা পোড়ার জন্য প্রতিদিন সকালে খালি পেটে থানকুনি পাতার রস হালকা চিনির সাথে মিশিয়ে খেয়ে নেবেন। সে ক্ষেত্রে এসিডিটি থেকে মুক্তি মিলবে। 

বদহজম:


বদহজমে সাধারণত থানকুনি পাতা খুব ভালো কাজ করে কেননা অনেক আছে বদহজমে বারবার পায়খানা করতে হয়। এবং খিদে লাগে না। সেক্ষেত্রে সকালে বাসি পেটে থানকুনি পাতার রস খেলে বদহজম থেকে মুক্তি মেলে। 
অথবা থানকুনি পাতা কাচা চিবিয়ে খেয়ে নিলেও বদহজমে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে।
 

ক্ষুধামন্দা:


বদহজম হলে সাধারণত ক্ষুধামন্দা দেখা দেয় এবং এসিডিটির কারণে খুদার ভাব দূর হয়ে যায়। এবং বদহজম এবং অ্যাসিডিটিতে যেমন ভূমিকা পালন করে থানকুনি পাতা ঠিক সেরকমই ক্ষুধামন্দা ভাব দূর করতেও থানকুনি পাতা খুবই উপকারী।
 

গলা ব্যাথা:


ঠান্ডার কারণে আমাদের সাধারণত গলা ব্যাথার সৃষ্টি হয়। বা হালকা জ্বর জ্বর ভাব হলে পুরো শরীর ব্যাথা হয়। ঠিক সেসময় থানকুনি পাতার রস হালকা গরম করে বা হালকা পরিমাণ লবণ দিয়ে সেই রস খেয়ে নিলে গলা ব্যাথা থেকে মুক্তি মেলে। 

থানকুনি পাতা (thankuni pata) সাধারণত খাওয়ার নিয়ম:


থানকুনি পাতা যেকোনো ভাবেই খেতে পারেন কেননা এতে কোনো সমস্যা হবে না। কারন প্রাকৃতিক ঔষধ সাধারনত যেকোনো ভাবেই খাওয়া যায়।রস করেও খেতে পারেন,চিবিয়েও খেতে পারেন। 

এতক্ষণ কথা বললাম থানকুনি পাতার উপকারিতা নিয়ে এবারে কথা বলব থানকুনি পাতার অপকারিতা নিয়ে। কেননা থানকুনি পাতা এমন একটা জিনিস যার উপকারিতা এবং অপকারিতা দুটোই রয়েছে। 
পৃথিবীতে সকল বস্তুর ভালো দিক এবং খারাপ দিক রয়েছে। ঠিক সেরকম থানকুনি পাতাও। তাহলে চলুন জেনে নেই থানকুনি পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা।

থানকুনি পাতার অপকারিতা(thankuni patar side effect):


থানকুনি পাতার অপকারিতার ভিতরে সেরকম কিছুই নেই। এ পৃথিবীতে থানকুনি পাতার হাজারো উপকারিতার ভেতরে কিছু অপকারিতা রয়েছে। 
থানকুনি পাতার অপকারিতার ভিতরে অল্প পরিমাণে কাঁচা পাতা খেতে গেলে তেমন কোন কিছুই হবেনা। কিন্তু বেশি পরিমাণে খেলে বিপদ। থানকুনি পাতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ভিতরে যে গুলো অন্যতম তা হল বেশি পরিমাণে খেলে। 

  • মারাত্তক পেটে যন্ত্রণা হতে পারে 
  • মাথা ঘোরা 
  • বমি বমি ভাব 
  • চুলকানি ও এলার্জি রিএকশন   
  • রক্তচাপ কমে যেতে পারে
  • যারা হেপাটাইটিস বা অন্য কোন লিভারে ভুগছেন
  • সম্প্রতি অপারেশনের রোগীদের 

তাদের থানকুনি পাতা খাওয়া উচিত নয় কেননা তাতে থানকুনি পাতা থেকে ক্ষতি হতে পারে এবং আগামী দুই সপ্তাহ যদি কোন অপারেশন হয়ে থাকে তাহলে তার সতর্কতা মেনে চলতে হবে। এ হলো থানকুনি পাতার ক্ষতিকর দিক ও অপকারিতা।

উপরিউক্ত লেখায় এতক্ষণ কথা বললাম থানকুনি পাতার উপকারিতা এবং অপকারিতা নিয়ে। কেননা প্রায়ই মানুষের মনে প্রশ্ন জাগে থানকুনি পাতা নিয়ে যে থানকুনি উপকার কি বা এর অপকারিতাই বা কি।
এ ধরনের প্রশ্ন সারাক্ষণই মানুষের মনে ঘুরপাক খায়। তাই আজ উক্ত লেখা পাঠ করার পর কারই সন্দেহ থাকবে না বা প্রশ্ন আসবে না থানকুনি পাতার উপকারিতা ও অপকারিতা নিয়ে।
 
আমার লেখা যদি ভালো লাগে তাহলে অবশ্যই লাইক কমেন্ট এবং শেয়ার করবেন ধন্যবাদ সবাইকে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ